ভালোবাসি তোমায় || ভালোবাসার গল্প || মোঃ সাব্বির হোসেন
বিছানার এক কোনে বসে কান্না করেই যাচ্ছে সুস্মিতা। চোখ ফুলে উঠেছে কান্না করতে করতে। চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝড়ছে আর ডুকরে উঠছে একটু পর পর। অবশ্য সদ্য ব্রেকাপ হওয়া মনকে কি করেই বা শান্ত করবে সে। বড্ড ভালোবাসত যে তাকে। হ্যা, একটু আগেই রাকিবের সাথে ব্রেকাপ হয়েছে তার। এত কেয়ার আর বিশ্বাসের ভালোবাসাও যে ছেড়ে যেতে পারে এ কথা যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না সে। কি করে বোঝাবে সে তার মনকে। এত সুন্দর চেহারাও যে ধোকা দিতে পারে মন তো সেটা মানতেই নারাজ। বেশ কয়েকবার ভেবেছে আত্মহত্যা করবে সে। কিন্তু বাবা মায়ের সম্মানের কথা ভেবে আর সে পথে পা বাড়াতে পারে নি সুস্মিতা। অবশেষে খুব কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়েছে সে। নিজেকে সামলে নিতে পাক্কা ছয়টা মাস সময় লেগেছে সুস্মিতার। এতদিন কলেজেও যায়নি সে। লেখাপড়ার বড্ড ক্ষতি করে ফেলেছে সে খুব ভালো করে বুঝতে পারল। ক্লাসের টপ গার্ল সে। এভাবে তো বসে থাকলে চলবে না। রেজাল্ট ভালো করতেই হবে তাকে। মনে মনে ঠিক করে নিল এবার থেকে ভালো করে পড়বে সে। কলেজেও যাবে সে। আজ শুক্রবার। কাল কলেজে যাবে অনেকদিন পর। ডায়রিটা বের করে সুমনাকে একটা ফোন করল সে। সুমনা তার বান্ধবীর নাম। অনেকদিন যোগাযোগ নেই তাই নাম্বারটাও ভুলে গেছে সুস্মিতা।
সুস্মিতাঃ হ্যালো, সুমনা। কেমন আছিস দোস্ত।
সুমনাঃ ভালো, তুই কেমন আছিস। কোথায় আছিস তুই। কতদিন তোর কোন খবর নেই। তোকে কত্ত খুজেছি আমি জানিস।
সুস্মিতাঃ আরে ওত প্রশ্ন একবারে বললে কি করে উত্তর দিব বল। একটা একটা করে জিজ্ঞাসা করবি তো। আমি কাল কলেজে আসছি। কলেজে এসে সব বলব।।
সুমনাঃ আচ্ছা ঠিক আছে। কাল কলেজে দেখা হচ্ছে তাহলে।
সুস্মিতাঃ হুম
মনে মনে একবার বন্ধুত্বের প্রশংসা আর ভালোবাসাকে একবার বেইমান বলে গালি দিল সে। তারপর ফ্রেশ হয়ে ভাবতে লাগলো পুরনো দিনের কথা। কতই না স্বপ্ন দেখেছিল সে দিনগুলো নিয়ে। অথচ আজ সব কিছুই কেমন যেন মাটিচাপা দেয়া লাশের মত। যাহোক,৷ রাত অনেক হয়ে গেছে এবার ঘুমুত্ব হবে। আজ আবার সকাল সকাল উঠতে হবে। এতদিন পর কলেজে যাচ্ছে সে আজকেও যদি লেট করে যায় তা কি করে হয়। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে একটা রিকশা নিয়ে রওনা দেয় কলেজের দিকে। যাবার পথে রাস্তায় সুমনাকে দেখে তার সাথে তুলে নেয় সে। দুজনে গল্প করতে করতে কলেজ পৌছায়। কলেজের ভিতরে ডুকে সেই চির চেনা রেইনট্রি গাছের নিচে গিয়ে বসে দুজন। সুমনাকে তার জীবনে ঘটে যাওয়া সব কিছু খুলে বলে। যদিও সুমনা একটু আধটু জানতো। সব শুনে সুমনা এসব ভুলে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করা পরামর্শ দিল সুস্মিতাকে। অনেকদিন পর আবার একটা বন্ধুত্বময় পরিবেশের স্পর্শ পেল সুস্মিতা। আজ নিজেকে নিজের কাছেই খুব ভালো লাগছে। মনটা তার খুব প্রফুল্ল লাগছে।
অন্যদিকে তাদের দুজনের গল্পকরা দেখছিল শাহেদ। শাহেদ এই কলেজেই পড়ে। সে সুস্মিতাদের সিনিয়র ব্যাচ। শাহেদ আগে থেকে পছন্দ করত সুস্মিতাকে। কিন্তু কখনো বলার সাহস পায় নি। তার ভালোবাসা শুধুমাত্র দেখে যাবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। যেন এর চেয়ে বেশি কিছু করার অনুমতি নেই তাই। এর মধ্যেই ঘন্টা পরে গেল। সবাইকে ক্লাসে যেতে বলা হচ্ছে। সুমনা ও সুস্মিতা ক্লাসে চলে গেল। শাহেদও তার ক্লাসে চলে গেল। সারা ক্লাস জুরে শাহেদ শুধু সুমনার কথাই ভাবছিল। আজ যে করেই হোক বলতে হবে সুস্মিতাকে তার ভালোবাসার কথা। যে করেই হোক সে বলবেই আজ। ছুটির ঘন্টা বেজে গেছে। সকলে ধীরে ধীরে ক্লাস থেকে বেরোচ্ছে। শাহেদ গেইটের কাছে অপেক্ষা করছে সুস্মিতার জন্য। কিন্তু সুস্মিতা আজ নামছে না কেন। শাহেদ যে ব্যাকুল হয়ে আছে। একটু পরই দেখা পাওয়া গেল সুস্মিতার। সুমনা আর সুস্মিতা সিড়ি দিয়ে নামছে গল্প করতে করতে। গেইটের কাছে আসতেই সুস্মিতাকে ডাক দেয় শাহেদ। তারপর সে বলতে শুরু করে।
শাহেদঃ সুস্মিতা, একটু শুনবে।
সুস্মিতাঃ অনেকটা অবাক আর আশ্চর্যের চাহনীতে তাকিয়ে তার দিকে এগোয়।
সুস্মিতাঃ হুম বলুন
শাহেদঃ ইয়ে মানে..... হল গিয়ে....মানে
সুস্মিতাঃ মানে মানে ছাড়া যদি অন্য কিছু বলার থাকে তাহলে বলুন।
শাহেদঃ মানে.... আমি.... মানে
সুস্মিতাঃ আপনি মানে মানে করতে থাকুন আমি আসছি?
শাহেদঃ না প্লিজ যেও না আমি বলছি।
সুস্মিতাঃ হ্যা তারাতাড়ি বলুন।
শাহেদঃ শাহেদ একটা দীর্ঘ দম নিয়ে এক দমে বলে দেয় আমি তোমাকে ভালোবাসি।
সুস্মিতাঃ কথাটা শোনা মাত্রই ঠাস করে একটা চর মেরে বসে শাহেদকে......
চলবে....
গল্পঃ ভালোবাসি তোমায়
পর্বঃ ০১
লেখকঃ মোঃ সাব্বির হোসেন


Post a Comment