স্বপ্নের কুয়াশা || কৌতুক গল্প || মোঃ সাব্বির হোসেন

 

স্বপ্নের কুয়াশা গল্প





সকাল ৭ টা, ঘুম থেকে উঠেই দেখি রিতা ঘরে নেই। হটাৎ কোথায় গেল এই নিয়ে খুব চিন্তা হচ্ছিল। তবে অফিসের চাপের কারনে নিজেকে খুব ক্লান্ত লাগছিল। তাই গেছে হয়ত বাহিরে কোথাও এই ভেবে  ঘুমিয়ে গেলাম। তারপর সকাল সারে ৯ টায় ঘুম থেকে উঠলাম। উঠে চমকে গেলাম, সে কী রিতা এখনো বাসায় ফেরেনি। সে তো কখনো বাসার বাহিরে এতক্ষন থাকে না। নিজের ভেতরটা মুচরে উঠল। ভয় পেতে লাগলাম।  খুজতে লাগলাম চারিদিকে।  পুরো এলাকা খুজলাম, কিন্তু কোথাও পেলাম না ।  আস্তে আস্তে ভয়টা আরোও তীব্র হতে লাগল। এদিকে আবার অফিসে আজকের মধ্যে ক্লায়েন্টকে প্রজেক্ট ডেলিভারি দিতে না পারলে বস আবার আমার চাকরী খেয়ে দিবে। কেননা এই নিয়ে তিনবার প্রজেক্টের ডেডলাইন চেইঞ্জ করা হয়েছে। সময়মত ডেলিভারি হয়নি। টেনশনে আমি পাগল প্রায় অবস্থা। ভাবলাম অফিসে গিয়ে আগে প্রজেক্টটি ডেলিভারি দিয়ে বসকে বলে চলে আসব। ফ্রেশ হতে বাথরুমের কাছে যেতেই কেমন যেন একটা গোঙানির আওয়াজ পেলাম। উহঃ উং, উহাহা, উহি অনেকটা এমন।  খুব উদভটে আর বিশ্রী একটা শব্দ। শুনলেই গা কাটা দিয়ে উঠে।    ভয়টা আরোও বেড়ে গেল। ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলাম কে ভেতরে? পরক্ষণেই আমার মনে পড়ল রিতার কথা। ভেতরে তবে রিতা নয়ত। বাইরে থেকে ডাক দিলাম, রিতা! ও রিতা।  তুমি কি ভেতরে। ভেতর থেকে কোন সারা শব্দ পেলাম না। ভয় আরোও বাড়তে লাগলো। টেনশন বাড়তে লাগলো।  কয়েকবার ডেকেও কোন সারা পাচ্ছিলাম না বলে দরজা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিলাম। ঘর থেকে বটি নিয়ে আসলাম। প্লাস্টিকের দরজা তাই বটি দিয়ে কেটে দিলাম। দরজাটা সরাতেই আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম। সেকী ভেতরে কেউই তো নেই।  তবে ঐ শব্দটা, সেটা কি আমার ভুল ছিল। না হতেই পারে না,  আমি তো স্পষ্ট শুনলাম সে শব্দটা৷ নাহ! আমি এতটাও ভুল শোনার তো কথা না। হটাৎ ঘড়ির দিকে তাকাতেই চক্ষু চড়ক গাছ। সে কী ঘড়িতে তো দুপুর ১ টা ৩০ বাজে। এটা কি করে সম্ভব। দরজা খুলতে খুলতেই ৪ ঘন্টা কি করে চলে যেতে পারে। ভয়তো এবার আরোও বেড়ে গেলে। হটাৎই লক্ষ করলাম বিছানার উপর রাখা আমার ফোনে কল বাজছে। গিয়ে দেখি অফিসের বসের ফোন।  ফোনেই উনি রেগে গিয়ে বললেন,  আজকেও প্রজেক্ট ডেলিভারি দিতে না পারায় আমার চাকরি চকে গেছে।  পরলাম আরেক টেনশনে। মাত্র ৩ মাস হল অফিসে জয়েন করেছি,  এর মধ্যেই চাকরি চলে গেল। এখন এই করোনাকালীন সময়ে আমাকে কে চাকরি দিবে। যাই হোক, চাকরির বেপারটা আপাতত মাথা থেকে ঝেরে ফেললাম। এই সময়ে আমার রিতার উপর সবচেয়ে বেশি রাগ হচ্ছিল। ইচ্ছে করছিল কাছে পেলে আমিই ওকে মেরে ফেলি। সবকিছুই আমার কাছে কেমন যেন কুয়াশার মত লাগছে।  আর কিছুই ভাবতে পারলাম না। ফোন দিলাম শাশুড়ী আম্মার কাছে৷  জিজ্ঞাস করলাম,  রিতা কি আপনাদের ওখানে গিয়েছে। তিনিও না উত্তর দিলেন।  তার সকল বান্ধবীকেও আমি কল দিলাম।  সব জায়গা থেকে একিই উত্তর,  "না এখানে আসেনি তো!"।  এবার ভেতর থেকে ভয় চলে গেলে আমার।  আর চরম হতাশা এসে বাসা বাধল। ভাবলাম,  সব চিন্তা বাদ দিয়ে বাইরে গিয়ে আবার খুজে দেখি। তাই বাইরে বের হলাম। এদিকে আবার বের হবার সময় মাস্ক নিতে ভুলে গেছি। পরলাম পুলিশের জেরার মুখে। গুনতে হল জরিমানা। কিছুক্ষনের মধ্যেই নিজেকে অনেক অসহায় লাগছিল। চরম হতাশা নিয়ে একটা বেঞ্চিতে বসলাম। পাশে এসে একটা মেয়ে বসল।  হুবহু রিতার মত দেখতে।  আমার রাগ ১০৯ তে উঠে গেলে।  ভাবলাম এটাই রিতা। গিয়ে কষিয়ে একটা চর মারলাম আর বলতে লাগলাম সারাদিন কোথায় ছিল।  কত জায়গায় খুজেছি তোমাকে তোমার কোন ধারনা আছে।  পাশ থেকে কিছু বুঝে ঊঠার আগেই আমাকে মারতে শুরু করল। ভাবলাম,  আমার বউকে আমি মেরেছি এরা আবার আমাকে মারছে কেন। আর রিতাও কাদছে কেন।  আমাকে মারা শেষ হলে আমাকে যে মারছিল তার হাত ধরে রিতা চলে যাচ্ছে। সে কী তুমি কোথায় যাচ্ছ ঐ লোকটার সাথে রিতা। মেয়েটি উত্তর দিল,  আমি রিতা নই প্রভা। এবার আমার মাথা ৩৬৯ °  করে ঘুড়তে লাগল। সব কিছুই কেন যেন মাথার উপর দিয়ে যেতে লাগলো। আরোও একরাশ হতাশা নিয়ে বসে পরলাম বেঞ্চিতে। নাহ আর ভালো লাগছে না। রাত হয়ে গেছে।  নাহ,  আর পারব না এবার বাসায় যেতে হবে।  বাসায় গিয়েই ফ্রেশ হয়ে একটা লম্বা ঘুম দিলাম।  ঘুম থেকে উঠলাম পরদিন সকাল ৮ টা। উঠেই দেখি রিতা আমার পাশেই ঘুমিয়ে আছে। মেজাজটা আবার বিগ্রে গেল। ঝাড়ুটা হাতে নিয়ে ইচ্ছামত পেটালাম তাকে।  সে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে আর ব্যাথায় ঝটপট করতেছিল। আমি মারতেছি আর বলতেছি কাল এত করে তোকে খুজলাম কই গেছিলি।  আমাকে ঐ ছেলেগুলার হাতে মাইর খাওয়াইছিলি কেন। এখন তারই প্রতিশোধ নিচ্ছি। গেচলি যখন আবার আসলি কেন। আমার কথাগুলা রিতা শুধু শুনেই যাচ্ছিল আর মাইর খেয়ে যাচ্ছিল। মেরে মনের জ্বালা মিটিয়ে নিলাম।  তারপর বাইরে গিয়ে একটা সিগারেট ধরালাম। হটাৎ ফোনে বসের ফোন।  ফোন ধরেই দিলাম কয়েকটা ঝাড়ি।  ঝাড়ি শুনেই বস বলল সাব্বির সাহেব আপনি আমার সাথে উচ্চ সরে কথা বলেছেন কেন। আজ থেকে আপনার চাকরি নেই। নেই কথাটা শুনেই চমকে গেলাম। তার মানে কি চাকরি যায়নি আমার। মুহুর্তেই মাথাটা আবার ঘুড়তে লাগলো।  দৌড়ে ঘরে গিয়ে বাথরুমের সামনে গেলাম। কই দরজা তো ঠিকিই আছে। তাহলে গতকাল যে আমি দরজা কেটে দেখলাম সেটা কি তবে স্বপ্ন ছিল। হায়হায়,  তবে কি আমার সাথে যা যা ঘটেছে সব স্বপ্ন ছিল। ঘরে গিয়ে দেখি বউও নাই। ফোন দিলাম তাকে। ফোন রিসিভ করেই বলতেছে, তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই। আমি তোমাকে ডিভোর্স লেটার সই করে লাঠিয়ে দিব। আমি বাবার বাড়ি চলে এসেছি। আর হ্যা, ভুলেও এখানে আসার চেস্টা করো না। একথা শুনে অবস্থা আমার আরোও খারাপ। রেডি হয়ে তারাতারি অফিসে গেলাম।  বস আমাকে দেখেই রেগে গেলেন। উনাকে কোনমতে থামিয়ে আমি উনাকে সবটা বোঝালাম। উনি সব শুনে হাসতে হাসতে শেষ।  সাথে আমার চাকরিটাও ফিরিয়ে দিলেন। হাফ ছেড়ে বাচার মত অবস্থা আমার। সাথে বউকে বোঝাবার জন্য ২ দিন ছুটিও দিলেন। এবার আমি মিষ্টির প্যাকেট বোঝাই করে চললাম শশুর বাড়ি। এবার প্রচুর বোঝাতে হবে বউকে। তাই বোজানোর মাঝে আপনাদের আর নাইবা আনলাম। আমার জন্য দোয়া কইরেন, যাতে বউকে বুঝিয়ে বাড়ি আনতে পারি। 


আল্লাহ হাফেজ


গল্পের নামঃ স্বপ্নের কুয়াশা

লেখকঃ মোঃ সাব্বির হোসেন


বিঃ দ্রঃ অন্যের গল্প নিজের বলে প্রচার করা ঘৃণিত অপরাধ। তাই এমন কাজ করা থেকে সকলেই বিরত থাকি।